পিরোজপুরের ৪ ছাত্রী পরিবারের কাছে যেতে চায় না সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ,পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে নিখোঁজের ১১ দিন পর উদ্ধার করা চার ছাত্রী পরিবারের কাছে যেতে না চাওয়ায় তাদের নিরাপদ হেফাজতে (সেফ হোমে) পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।শুক্রবার দুপুরে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কামরুল আজাদ এ আদেশ দেন।এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দারুল সালাম এলাকা থেকে চার ছাত্রীকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া থানা–পুলিশ।

পিরোজপুরের ৪ ছাত্রী পরিবারের কাছে যেতে চায় না সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ
ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই চার ছাত্রী রাজধানীর দারুল সালাম এলাকায় দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে এবং পোশাক কারাখানায় চাকরি নেয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান জানার পর তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের কাছে যেতে না চাওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়।মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উপপরিদর্শক (সিএসআই) মাইনুল ইসলাম বলেন, চার ছাত্রীকে
নিরাপদ হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। তাদের বরিশালের মহিলা ও কিশোরীদের জন্য থাকা নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই চার ছাত্রীর মধ্যে দুজন কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, অন্য দুজন নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৩০ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে বিদ্যালয় ও কলেজে যাওয়ার কথা বলে বের হয় তারা। এর পর থেকে তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ ছিল।এ ঘটনায় তাদের পরিবারের
পক্ষ থেকে ১ ও ৩ মে স্থানীয় থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওই চার ছাত্রী বিভিন্ন সময়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে অংশ নিত। জিডি পাওয়ার পর ওই চার ছাত্রীকে উদ্ধারে কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এরপর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।গতকাল সকালে রাজধানীর দারুল সালাম এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া থানায় আনা হয়। খবর পেয়ে ছাত্রীদের মা–বাবা ও

স্বজনেরা থানায় গিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু চার ছাত্রী তাতে রাজি হয়নি। আজ দুপুরে পুলিশ চার ছাত্রীকে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর বিচারক তাদের নিরাপদ হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।চার ছাত্রীর মধ্যে কলেজপড়ুয়া একজনের মা বলেন, ‘আমার মেয়ে ও তার বন্ধু প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রায়ই বাড়ি থেকে বিভিন্ন স্থানে যেত। খেলাধুলা শেষে দুই–তিন দিন পর আবার বাড়িতে চলে
আসত। কিন্তু ৩০ এপ্রিল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। ওদের উদ্ধারের পর বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা আসতে চাচ্ছে না।’মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধারের পর চার ছাত্রী জানিয়েছে, তাদের চলাফেরা ও খেলাধুলায় পরিবার বাধা দিত। এ জন্য তারা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। পুলিশ উদ্ধার করে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা পরিবারের জিম্মায় যেতে রাজি হয়নি। এ কারণে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
১ thought on “পিরোজপুরের ৪ ছাত্রী পরিবারের কাছে যেতে চায় না সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ”