পিরোজপুরে হালকা বাতাসেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ,পিরোজপুরে হালকা বাতাস বা ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গ্রিড সাবস্টেশন না থাকায় বিদ্যুৎ আসে ২৮ কিলোমিটার দূরের বাগেরহাটের একটি গ্রিড সাবস্টেশন থেকে। বেশি দূরত্বের কারণে হালকা বাতাসেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন জেলাবাসী।

পিরোজপুরে হালকা বাতাসেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
এই দিনে সমস্যা নিরসনে কদমতলায় জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে ১০ মাসে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।সরেজমিন জেলা শহরের এনজিওকর্মী সুমন শেখের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, রোববার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কম্পিউটারে রিপোর্ট তৈরির কাজ করছিলেন। পরদিন জমা দিতে হবে। বাইরে বাতাস শুরু হয়েছে। রিপোর্ট সেভ দেয়ার আগে কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই বিদ্যুৎ চলে যায়।
চরম বিপদে পড়েন তিনি। এ-জাতীয় ঘটনা শুধু সুমন শেখের নয়, পিরোজপুরের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায়ই শিকার হন এ জাতীয় বিড়ম্বনার।সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশি দূরত্বের কারণে ঘটে বিদ্যুৎবিভ্রাট। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পিরোজপুরের কদমতলায় স্থাপন করা হচ্ছে একটি গ্রিড সাবস্টেশন। এনার্জি প্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটি নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এ প্রতিষ্ঠানের
কোনো দেখা মিলছে না। কাজের নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে শিগগিরই কাটছে না বিপদ।পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম রসূল শেখ বলেন, ‘পিরোজপুরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আরেক নাম হয়রানি ও ভোগান্তি। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ যায় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলে লাইন বন্ধ হয়ে কখনো কখনো ৭ থেকে আট ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। বিদ্যুতের কারণে আমাদের

দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।’পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকিব বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পিরোজপুরে কোনো ধরনের কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না। বিদ্যুতের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হলে অনুন্নত জেলা
পিরোজপুরে কলকারখানা গড়ে উঠবে এবং মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু দারদা বলেন, পিরোজপুরের বিদ্যুৎ হলো আবহাওয়ানির্ভর। ঝড় কিংবা বাতাস যা-ই হোক না কেন, বিদ্যুৎ ফল্ট করলে তা সমাধান করতে ২৮ কিলোমিটার লাইন চেক করার বিকল্প নেই। আর পিরোজপুরে একটি গ্রিড সাবস্টেশন থাকলে দুটি সোর্স থেকে পাওয়া যেত বিদ্যুৎ।
তবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।পিরোজপুরের কদমতলায় তিন একর জমির ওপর ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হচ্ছে একটি গ্রিড সাবস্টেশন।

১ thought on “পিরোজপুরে হালকা বাতাসেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ”