পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান, পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত ।

পিরোজপুর জেলা সর্ম্পকে কিছু তথ্যঃ-

পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পিরোজপুরের উত্তরে বরিশাল জেলা ও গোপালগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরগুনা জেলা, পূর্বে ঝালকাঠি জেলা ও বরগুনা জেলা, পশ্চিমে বাগেরহাট জেলা ও সুন্দরবন। পশ্চিমে বলেশ্বর নদী পিরোজপুরকে বাগেরহাটের থেকে আলাদা করেছে।

 

পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান
কুড়িয়ানা পেয়ারা বাজার – পিরোজপুর জেলা

 

পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান:-

পিরোজপুর জেলা শিল্প কারখানায় সমৃদ্ধ নয়। বড় ধরনের কোন শিল্প কলকারখানা এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি। জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশই কৃষিকাজে নিয়োজিত। এই জেলার কাউখালী লবন উৎপাদনে মোঘল ও বৃটিশ আমলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জেলায় ৪টি লবন মিল ছিল।

বর্তমানে মেসার্স পল্লী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, গণমান, নেছারাবাদ নামে মিলগুলো চালু আছে। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরে মোট ১৬৭ টি প্লট আছে, যার মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট সংখ্যা ১৪৪টি, বরাদ্দকৃত শিল্প ইউনিট ৯৯টি, উৎপাদনরত শিল্প ইউনিট ৫৯ টি এবং ২৬টি প্লট বরাদ্দের অপেক্ষায় আছে।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

পিরোজপুর জেলার ইতিহাস

বর্তমান পিরোজপুর জেলা বঙ্গোপসাগরের ঔরসজাত জোয়ার-ভাটার পলিরেণুতে গড়া একটি পলল ভূ-ভাগ। সমুদ্রের লোনাজল স্নাত হয়ে গাঙ্গেয় বদ্বীপের দক্ষিণভাগে সাগরবক্ষে একদিন যে মৃত্তিকা উঁকি দিয়েছিল, সেটিই কালক্রমে পরিণত হয়েছে জনপদে, মুখরিত হয়েছে জনকোলাহলে। তবে গাঙ্গেয় বদ্বীপের যে ভূ-ভাগ নিয়ে পিরোজপুর জনপদ গঠিত, সে অঞ্চল অপেক্ষাকৃত বয়সে নবীন ও বাংলাদেশের দক্ষিণভাগে অবস্থিত প্রান্ত ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।

সুলতানি আমলে মুসলিম শাসক ফিরোজশাহের নামানুসারে বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের এ অঞ্চল পরিচিতি পায় ফিরোজপুর নামে। বর্তমান পিরোজপুর নামটি এ ফিরোজপুর নামেরই অপভ্রংশ বলে গবেষকরা মনে করেন। অন্যমতে, মোগল সম্রাট শাহসূজার অকাল প্রয়াত পুত্র ফিরোজশাহের নামে ‘ফিরোজপুর’ এবং পরে অপভ্রংশ হিসেবে ‘পিরোজপুর’ নামকরণ হয়েছে। মোগল আমলে জঙ্গল আবাদ করে সুন্দরবন অঞ্চলে ব্যাপক জনবসতি শুরু হলে পিরোজপুর অঞ্চলেও জনবিন্যাস ঘটে।

 

পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান
ভাসমান সবজি ক্ষেত মুগারঝোর – পিরোজপুর জেলা

 

সম্রাট আকবরের আমলে লবণ কর রহিত করা হলে সুন্দরবন অঞ্চলে লবণ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গড়ে ওঠে মোগলদের রাজস্ব পরগণা নিমকমহল। পূর্বে এ অঞ্চল সরকার খলিফাবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এসে টোডরমলের রাজস্ব তালিকার নিমকমহলটি তার নামে নতুনভাবে পরিচিতি পায় সেলিমাবাদ পরগণা হিসেবে। তৎকালীন বাখরগঞ্জ জেলায় দ্বিতীয় বৃহত্তম পরগণা ছিল সেলিমাবাদ পরগণা।

সে সময় ঝালকাঠি, বাউফল, স্বরূপকাঠি, নেছারাবাদ, রাজাপুর, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, তৎকালীন যশোর জেলার কচুয়া প্রভৃতি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল সেলিমাবাদ পরগণা। ১৬১১ সাল পর্যন্ত সেলিমাবাদ ছিল চন্দ্রদ্বীপ রাজাদের অধীনে। ১৬১১ সালে চন্দ্রদ্বীপ মোগল অধিকারে গেলে চন্দ্রদ্বীপ ভেঙ্গে কয়েকটি পরগণায় বিভক্ত করা হয়। সেলিমাবাদ ছিল তার মধ্যে একটি। ১৭২২ সালে রাজস্ব জরিপকালে সেলিমাবাদ পরগণা বিভক্ত করে আরও ১০টি ছোট পরগণা, তালুক ও হাওলা সৃষ্টি করা হয়।

আরও পড়ূনঃ

১ thought on “পিরোজপুর জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান”

Leave a Comment